April 18, 2026 1:16 PM

printer

লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য এক তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের লক্ষ্যে সংবিধানের ১৩১ তম সংশোধনী বিল লোকসভায় পাশ হলনা

লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য এক তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের লক্ষ্যে সংবিধানের ১৩১ তম সংশোধনী বিল লোকসভায় পাশ হলনা। বিল নিয়ে গতরাতে ভোটাভুটির সময়ে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তা পাশ করা সম্ভব হয়নি। বিলের পক্ষে ২৯৮ এবং বিপক্ষে ২৩০ টি ভোট পড়ে।  ৪৮৯ জন সদস্য সভায় উপস্থিত ছিলেন। দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যা গরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩২৬ টি ভোট।

লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা ভোটাভুটির পর জানান, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে বিলটির অনুমোদন লাভ সম্ভব হল না।       

  পরে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজেজু বলেন, বাকি যে দুটি বিল নিয়ে আলোচনা চলেছিল – আসন পুনর্বন্যাস বিল ২০২৬ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সংশোধনী বিল ২০২৬-ও সংবিধানের ১৩১ তম সংশোধনী বিলের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সেই কারণে এই দুটি বিলও পাশ করা সম্ভব হল না। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীদের জন্যই মহিলারা আসন সংরক্ষণের সুযোগ লাভে বঞ্চিত হলেন।         

এদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, লোকসভায় কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে ও সমাজবাদী পার্টি যেভাবে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মের জন্য প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করতে দিল না, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় শ্রী শাহ বলেন, এই বিলটি অনুমোদিত না হওয়ায় লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলারা ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের সুবিধা আর পাবেন না। অথচ তা তাদের অধিকার ছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কংগ্রেস ও তার সহযোগী দলগুলি এই প্রথম নয়, এর আগেও এই ধরনের বাধা সৃষ্টি করেছে। এ থেকেই প্রমাণিত যে, তারা দেশের মহিলাদের স্বার্থরক্ষা ও উন্নয়নের বিরোধী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আরও বলেন, নারী শক্তির এই অপমান মহিলারা মেনে নেবেন না। ২০২৯ এর লোকসভা নির্বাচনে সমাজের সর্বস্তরের প্রতিটি জায়গায় বিরোধী দলগুলি মহিলাদের রোষের মুখে পড়বে। কোনোমতেই তাদের ভোট পাবেন না।

এর আগে বিল নিয়ে আলোচনার জবাবি ভাষণে অমিত শাহ বলেন, সরকার মহিলাদের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভার তাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করতে সবরকমের চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

 সংবিধানের আসন পুনর্বন্যাসে যে সংস্থান রয়েছে, তা রূপায়িত হলে, প্রতিটি কেন্দ্রের ভোটদাতার সামনে আরও বাস্তবোচিত সুযোগ এনে দেওয়া সম্ভব হবে। সীমানা পুনর্বিন্যাসের ফলে তপশিলি জাতি ও উপজাতিদের আসন সংখ্যা বাড়ছে এবং যারা এর বিপক্ষে সওয়াল করছে, তারা আসলে তপশিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য আসন সংখ্যা বৃদ্ধিরই বিরোধিতা করছে বলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী দাবি করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, নারীশক্তি বন্দন  অধিনিয়ম, মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত কোনো বিল নয়। নারীর ক্ষমতায়নেও এটির কোনো গুরুত্ব নেই। কারণ, মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনটি, ২০২৩ সালেই পাশ হয়ে গেছে। সংসদে এই বিল এনে সরকার, দেশের নির্বাচনী মানচিত্র পরিবর্তনের চেষ্টা করছিল। এর মাধ্যমে দলিত, অনগ্রসর শ্রেণী, তপশিলী জাতি ও উপজাতিদের, সমাজে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।   

  কেন্দ্রীয় মন্ত্রী HD কুমারাস্বামী, মহিলা ও শিশু কল্যণ মন্ত্রী অন্যপূর্ণা দেবী, পঞ্চায়েটি রাজ মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেল, বিলের সপক্ষে জোড়ালো সওয়াল করেন। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা শশী থারুর, DMK নেত্রী কানিমোড়ি, তৃণমূল কংগ্রেসের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির ডিম্পল যাদব ও শিরোমণি আকালি দলের হরসিমরত কর বাদল, আসন পুনর্বিন্যাস ছাড়াই সংসদে বর্তমান সদস্য সংখ্যার পক্ষেই মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ কার্যকর করার পক্ষে মত প্রকাশ করেন।     

 উল্লেখ্য, সংবিধানের ১৩১ তম সংশোধনী বিলে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে সাম্প্রতিক জন গণনার ভিত্তিতে সীমানা পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে এক তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছিল। ২০২৩-এ সংবিধানের ১০৬ তম সংশোধনী আইন, যা নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম  নামে পরিচিত, তা কার্যকর হয়। এর আওতায় লোকসভা ও বিধানসভাগুলিতে মেয়েদের জন্য এক তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়।

এদিকে, এই বিল পাশ না হওয়ায় NDA সাংসদরা গতকাল এই নিয়ে সংসদভবন প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ দেখান। আজ সকাল ১১ টা পর্যন্ত সভা মুলতুবি রাখা হয়েছে।