পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর আইনশৃঙ্খলা এবং পুরনো রাজনৈতিক হিংসার মামলাগুলি নিয়ে রাজ্য পুলিশ কড়া অবস্থান নিয়েছে। গতকাল পুলিশের অতিরিক্ত মহানির্দেশক- আইনশৃঙ্খলা, একটি নির্দেশিকা জারি করে রাজ্যের সমস্ত পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার এবং রেল পুলিশের কর্তাদের একাধিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক হিংসা সংক্রান্ত পুরনো মামলাগুলি নতুন করে খতিয়ে দেখতে হবে। যেসব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়েছে, সেগুলিও পুনর্বিবেচনা করতে হবে। তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সেইসব মামলার ফের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের’ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে থানায় জমা পড়া জিডি এবং বিভিন্ন অভিযোগও আবার পরীক্ষা করে দেখার উল্লেখ’ও রয়েছে নির্দেশিকায়। প্রাথমিক তদন্তে অপরাধের প্রমাণ মিললে নতুন মামলা দায়ের করতে হবে। এই সমস্ত তদন্ত ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করবেন জেলা পুলিশ সুপার এবং পুলিশ কমিশনাররা।
সীমান্ত এলাকায় পাচার এবং অপরাধ দমনের ক্ষেত্রেও কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত সীমান্ত বৈঠক করে সক্রিয় অপরাধী, সীমান্ত পাচারচক্র এবং গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদানের উপর জোর দিতে বলা হয়েছে।
বেআইনি গবাদি পশুর হাট, কসাইখানা এবং অবৈধ খননকার্যের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে নির্দেশিকায়। একইসঙ্গে বৈধ পশু ব্যবসা এবং খননকার্যে স্থানীয় দুষ্কৃতী বা তোলাবাজদের হস্তক্ষেপ যাতে না থাকে, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশুহত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোর ভাবে কার্যকর করার কথাও বলা হয়েছে।
একইসঙ্গে, রাজ্যের সমস্ত থানার মালখানায় থাকা অস্ত্র এবং গুলির ভাণ্ডার যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৫’ইমে-র মধ্যে সমস্ত মালখানা পরীক্ষা করে নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। ১৬’ইমে থেকে পরবর্তী দু’সপ্তাহ ধরে অস্ত্র, গুলি এবং বিস্ফোরক উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনাকেও অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। মোটরযান আইন মেনে হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য পুলিশ। প্রশাসনিক মহলের মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা এবং পুরনো রাজনৈতিক মামলাগুলি নিয়ে যে সক্রিয় অবস্থান নিয়েছে, এই নির্দেশিকা তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত।