May 18, 2026 6:02 PM

printer

কেন্দ্রীয় সরকার জল জীবন মিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৩৯ হাজার কোটি টাকার সহায়তা অনুমোদন করেছে

কেন্দ্রীয় সরকার জল জীবন মিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পে  পশ্চিমবঙ্গের  জন্য ৩৯ হাজার কোটি টাকার  সহায়তার অনুমোদন  দিয়েছে।  কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিল এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আজ এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন,  দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩৯ হাজার কোটি টাকার নতুন চুক্তির মাধ্যমে ঘরে ঘরে  নলবাহিত পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ আরও গতি পাবে। তিনি দাবি করেন, গত পাঁচ বছরে কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গকে ২৯ হাজার কোটি টাকা দিলেও প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি হয়নি এবং বহু ক্ষেত্রে কাজ শুধুমাত্র কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল।  পাশাপাশি সেচ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় সহায়তা চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের সহযোগিতা ছাড়া বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন।

অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিল জানান, ২০২৬ সালে ‘জল জীবন মিশন ২’ শুরু হয়েছে ১ লক্ষ ৬৯ হাজার কোটি টাকার বাজেট নিয়ে।   ২০২৮ সালের ডিসেম্বর  মাস পর্যন্ত  তা চলবে। তাঁর দাবি, ২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ১ শতাংশ গ্রামীণ পরিবারে  নল বাহিত জল পৌঁছত, বর্তমানে সেই হার বেড়ে হয়েছে ৫৬ শতাংশ।   যদিও স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়িতে পানীয় জল পরিষেবার হার এখনও জাতীয় গড়ের নিচে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শ্রী পাতিল আরও জানান, মোট বরাদ্দের মধ্যে কেন্দ্রের অংশ ৩৩ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা হলেও এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে এবং ১১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা অব্যবহৃত ।

জল সংরক্ষণ এবং জনঅংশগ্রহণের উপরও জোর দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ‘জল সঞ্চয় জন অংশগ্রহণ’ কর্মসূচির আওতায় দেশজুড়ে ১ কোটি জল সংরক্ষণ কাঠামো তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৮৯ লক্ষ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। মনরেগা তহবিলের বড় অংশ বৃষ্টির জল সংরক্ষণে খরচ করার পরামর্শও দেন তিনি।

প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা আরও সক্রিয় করতে খুব শীঘ্রই জেলা কালেক্টরদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করার কথাও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই চুক্তির ১৯টি শর্ত মন্ত্রিসভার অনুমোদিত এবং সেগুলি কার্যকর করা বাধ্যতামূলক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ভি সোমান্না, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, কেন্দ্রীয় পানীয় জল ও স্বচ্ছতা বিভাগের সচিব অশোক কে কে মিনা, পশ্চিমবঙ্গের প্রিন্সিপাল রেসিডেন্ট কমিশনার দুষ্মন্ত নারিয়ালা-সহ কেন্দ্র ও রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকরা।