July 7, 2025 11:01 AM

printer

রেল সুরক্ষা বাহিনী RPF-এর তৎপরতা ও প্রচেষ্টার ফলে এক ১৬ বছরের কিশোরীকে পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ করা সম্ভব হয়েছে।

রেল সুরক্ষা বাহিনী RPF-এর তৎপরতা ও প্রচেষ্টার ফলে এক ১৬ বছরের কিশোরীকে পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ করা সম্ভব হয়েছে। “Operation Nanhe Fariste”-এর আওতায় ১৬ বছরের ওই কিশোরীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি দুই মহিলা পাচারকারীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে শিয়ালদা ডিভিশন সূত্রের খবর। গত ৪ঠা জুলাই, শিয়ালদহ মেন পোস্টের অ্যান্টি-হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিট (AHTU)-এর একটি দল রুটিন চেকিং-এর সময় প্ল্যাটফর্ম নম্বর ১২-তে একজন ভীত-সন্ত্রস্ত কিশোরীকে একা বসে থাকতে দেখে সন্দেহজনকভাবে তার সঙ্গে কথা বলে। জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী সাহানী পারভিন জানায়, দিল্লিতে একটি ভালো চাকরির সে ক্যানিং থেকে এসেছে। মা – বাবার সম্মতিতেই এক আত্মীয়ার মাধ্যমে এক অচেনা মহিলার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা যায়। রেল সুরক্ষা বাহিনী তৎক্ষণাৎ প্রথম পাচারকারিণী, আকলিমা খাতুন মোল্লা (৪৭)-কে শনাক্ত করে গ্রেফতার করে। তাঁকে জেরা করে উঠে আসে অন্য আরেক জনের নাম। সে সাহানীকে আরেক পাচারকারিণী মারিয়ম বিবি (৩৯)-র হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, যিনি সাহানীকে ট্রেনে তুলে দিল্লি নিয়ে যেতেন। মারিয়ম বিবিকেও সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়। জেরায় মারিয়ম স্বীকার করেন, সে একজন ‘ট্রান্সপোর্টার’ হিসেবে কাজ করছিল এবং সাহানীকে দিল্লিতে এক “নাসির” নামে ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল এবং যেখানে সাহানীকে গৃহকর্মে নিযুক্ত করা হতো।
অন্যদিকে, আকলিমা খাতুন মোল্লা তার দীর্ঘদিনের পাচার কার্যকলাপ স্বীকার করে এবং জানায় প্রতি কিশোরী পাচারে সে ১৫০০ টাকা করে পেত। উদ্ধারকৃত কিশোরী এবং দুই অভিযুক্তের স্বাস্থ্য পরীক্ষা NRS হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি সহ একটি লিখিত অভিযোগ শিয়ালদা সরকারি রেল পুলিশ স্টেশনে (GRPS) জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে গত চৌঠা জুলাই একটি নির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলাটি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ধারা ১৪৩(৪)-এর অধীনে রুজু হয়েছে। বর্তমানে উদ্ধারকৃত কিশোরী GRPS/শিয়ালদহ-এর হেফাজতে সুরক্ষিত অবস্থায় রয়েছেন বলে রেল সূত্রের খবর