ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR এর প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার পর রাজ্যে খসড়া ভোটার তালিকা আজ প্রকাশিত হচ্ছে। দুপুরের মধ্যে এই তালিকা প্রকাশ হবে বলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর সূত্রের খবর।
মহকুমা উন্নয়ন আধিকারিক SDO, ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক BDO ও সংশ্লিষ্ট সমস্ত জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এর ওয়েবসাইট এবং জেলাশাসকের দফতরে এই খসড়া ভোটার তালিকা টাঙানো থাকবে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইট www.eci.gov.in এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের ওয়েবসাইট ceowestbengal.wb.gov.in এও এই তালিকা পাওয়া যাবে।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মোট ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন ভোটদাতা, SIR এর আওতায় ছিলেন। এর মধ্যে ৯২ দশমিক চার শতাংশ অর্থাৎ ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬১৬ ভোটারের এনুমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজ হয়েছে। অর্থাৎ ৫৮ লক্ষ এর বেশি ভোটারের নাম অনুপস্থিতি, স্থানান্তকরণ, মৃত এবং ডুপ্লিকেট এর জন্য খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে। ৩১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩৭৪ জন ভোটারের ২০০২ এর ভোটার তালিকার সঙ্গে ম্যাপিং হয় নি। এই সংখ্যক ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হবে।
এই খসড়া তালিকা প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে শুনানি প্রক্রিয়া।
বিডিও, এসডিও, জেলাশাসক বা স্থানীয় সরকারি অফিসে শুনানি হতে পারে। প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় একজন ইআরও এবং দশজন সহকারী ইআরও থাকবেন। দিনে সর্বাধিক একশোটি শুনানি নেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। শুনানিতে জমা পড়া সমস্ত নথি এবং ইআরও-এইআরওদের সিদ্ধান্ত ডিজিটাইজ় করা হবে। সেই সঙ্গে তথ্য ও সিদ্ধান্তের বৈধতা তাৎক্ষণিকভাবে অডিট করা হবে।
খসড়া তালিকায় নাম না থাকলে নতুন করে নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬ পূরণ করে আবেদন করা যাবে।
এদিকে, খসড়া তালিকা প্রকাশ হলেও তথ্য খতিয়ে দেখার কাজ বন্ধ হচ্ছে না।
পরিচয় ও নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের দেওয়া পরিচয়পত্র, জন্ম শংসাপত্র, পাসপোর্ট, শিক্ষাগত শংসাপত্র, স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র, সরকারি জমি-বাড়ির নথি প্রভৃতি গ্রহণযোগ্য হবে। আধার শুধুমাত্র সচিত্র পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে, তার সঙ্গে অন্য নথি লাগবে। প্রতিটি বাদ পড়া নাম আলাদা তালিকায় কারণ-সহ নথিভুক্ত থাকবে।