দীর্ঘমেয়াদী সরকারবিরোধী আন্দোলনের ওপর দমন পীড়ন আরো জোরদার করতে চলেছে ইরান। বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী এই অস্থিরতার জন্য সন্ত্রাসবাদীদের দায়ী করেছে। ইরান জুড়ে নতুন করে হিংসার খবর ছড়িয়ে পড়লেও ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে অস্থিরতার পূর্ণাঙ্গ চিত্র মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনলাইনে পোস্ট করা নতুন ভিডিওগুলিতে রাজধানী তেহরানের বেশ কয়েকটি এলাকা এবং উত্তর ইরানের রাশত, উত্তর-পশ্চিমের তাবরিজ এবং দক্ষিণের শিরাজ ও কেরমানসহ বেশ কয়েকটি শহরে নতুন বিক্ষোভের চিত্র দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের পশ্চিমে কারাজে একটি পৌর ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের শেষকৃত্যের ফুটেজ সম্প্রচার করেছে, যাদেরকে শিরাজ, কোম এবং হামেদান শহরে বিক্ষোভে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা ফুটেজে তেহরানে বিশাল জনসমাগম এবং রাস্তায় আগুন জ্বালানোর দৃশ্য দেখা গেছে। ইরানি মানবাধিকার গোষ্ঠী এইচ আর এ এন এ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৫ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন । গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন।
উল্লেখ্য, গত বছর ২৮শে ডিসেম্বর থেকে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে ইরানজুড়ে ধর্মীয় শাসনের অবসানের দাবিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ইরানী কর্তৃপক্ষ এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে।