কয়লা পাচার মামলায় রাজ্যে, আই প্যাকের দপ্তরে চালানো তল্লাশি নির্দিষ্ট প্রমাণ ভিত্তিক এবং এই অভিযানে কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি নেই বলে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট- ইডি এক বিবৃতি জানিয়েছে। তারা বলেছে, অর্থ তছরুপের বিরুদ্ধে চালানো নিয়মিত তদন্তের’ই এটি অঙ্গ। এই বিবৃতিতে ইডি আরো জানিয়েছে, ২০২০ সালে অনুপ মাজি এবং অন্যদের বিরুদ্ধে CBI-এর দায়ের করা FIR-এর ভিত্তিতেই ইডি মামলা দায়ের করে। তদন্ত চলাকালীন দেখা যায়, অনুপ মাজি পশ্চিমবঙ্গে ECL–এর আওতাধীন এলাকা থেকে অবৈধভাবে খনন করে বাঁকুড়া, বর্ধমান, পুরুলিয়া এবং রাজ্যের অন্যান্য জেলার কারখানা ও প্লান্টে বিক্রি করতো। চালানো হত, হাওয়ালা চক্র’ও। এই হাওয়ালা চক্রের মাধ্যমেই আইপ্যাকের সঙ্গে কয়েক শো’ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে তদন্তে উঠে আসে। আজ রাজ্যের ছ’টি এবং দিল্লির চারটি জায়গায় অভিযান চালানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লওডন স্ট্রিটে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে গোটা প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল। সেইসময়েই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী নিয়ে প্রতীকের বাড়িতে গিয়ে নথিপত্র এবং ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস তাঁদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছন আইপ্যাকের দপ্তরে। সেখানেও পুলিশ কর্মীরা জোর করে তথ্যপ্রমাণ সরিয়ে নিয়ে গেছে। এই ঘটনার ফলে অর্থ পাচার প্রতিরোধের আওতায় তদন্ত অভিযান বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে বলে ইডি ওই বিবৃতিতে জানিয়েছে।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ইডি-র এই তল্লাশির কঠোর সমালোচনা করেছেন।
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর ইডির আধিকারিকদের কাছ থেকে নথিপত্র ও ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার নিন্দা করেছে। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন,মমতা ব্যানার্জি আজ নিজেই তার ভাবমূর্তির কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিয়েছেন।
এই দুর্নীতির সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস যে সম্পৃক্ত তা মুখ্যমন্ত্রীর ফাইল এবং হার্ডডিক্স নিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় জনমনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাজ্যে প্রতিটি তদন্ত আদালতের নির্দেশে হচ্ছে। তাই এইভাবে ফাইল ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি আদালতকে অবমাননা,অপরাধী ও নিজের দলকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। তিনি যেভাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন তা নজিরবিহীন।
অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন এইভাবে তদন্তে বাধা দেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো অভ্যাস।