কেন্দ্রীয় সরকার, পশ্চিমবঙ্গে রেলের উন্নয়নে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৪ সালের পর এরাজ্যের জন্য রেলের বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে তিন গুন। বর্তমানে রাজ্যে ৮৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের একাধিক রেল প্রকল্পের কাজ চলছে। গত এক দশকে রাজ্যে ১ হাজার ৩৬২ কিলোমিটার নতুন রেলপথ তৈরী হয়েছে। এরফলে, বিভিন্ন ব্যস্ত রেলপথে ট্রেন চলাচল আরো সুগম হয়েছে। বেশ কিছু রুটের ডবল লাইন রেল যোগাযোগ এবং কিছু রেল নেটওয়ার্কের গেজ রূপান্তরের ফলে নিরবচ্ছিন্ন রেল পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এছাড়াও ‘অমৃত ভারত’ স্টেশনের অধীনে পশ্চিমবঙ্গের ১০১টি স্টেশনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পানাগড়, জয়চন্ডী পাহাড় এবং কল্যাণী ঘোষপাড়া স্টেশনের যাত্রী পরিষেবার উদ্বোধন করেছেন। তবে রাজ্য সরকারের সহযোগিতার অভাব এবং জমি অধিগ্রহনের সমস্যার ফলে কেন্দ্রীয় তহবিল এবং অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও বহু প্রকল্প বন্ধ হয়ে রয়েছে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বারংবার এই প্রকল্পগুলি চালু করার চেষ্টা করা হলেও, রাজ্যস্তরের ছাড়পত্র পেতে বিলম্ব হওয়ায় প্রকল্পগুলির সুফল থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন।
অন্যদিকে অসমেও, বিপুল বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং যাত্রী কেন্দ্রীক দৃষ্টিভঙ্গীর কারণে ভারতীয় রেল, পরিকাঠামোগত রূপান্তর ঘটিয়েছে। ২০১৪ সালের পর থেকে ট্র্যাক সম্প্রসারণ, বিদ্যুতায়ন, স্টেশন পুনর্নির্মাণ, নিরাপত্তা উদ্যোগ এবং যাত্রী সুবিধাকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। গত পাঁচ বছরে নির্মিত হয়েছে ৪১৬ কিলোমিটার নতুন রেলপথ। এর ফলে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক এলাকাগুলির সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগ বেড়েছে। বর্তমানে সেরাজ্যের রেল নেটওয়ার্ক, আড়াই হাজার কিলোমিটারের বেশী। ইতোমধ্যেই ৯৫ শতাংশ বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি মাত্র ১১৬ রুট- কিলোমিটারের কাজ প্রায় শেষের দিকে। অমৃত ভারত স্টেশনের অধীনে পুনর্গঠন করা হচ্ছে ৫০ টি স্টেশনকে।