ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শর্তের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। ট্রাম্প প্রশাসনকে নতুন এই শর্ত আরোপ করে তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সে দেশের বন্দরের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে এবং সংঘর্ষের অবসান ঘটালে, তবেই তারা হরমুজ খুলে দেবে বলে ইরান জানিয়েছে। তেহরান তার পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে পর্যায়ক্রমে আলোচনার প্রস্তাবও দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও বিদেশমন্ত্রী সারগেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকের মধ্যেই ইরানের তরফে এই প্রস্তাব দেওয়া হল।
বৈঠকের আগে আরাঘচি সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংঘর্ষ নিরসনের লক্ষ্যে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা আলোচনার পথে এগোতে চাইছে।
এদিকে, পুতিন ইরান রাশিয়ার সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্পর্ক হিসাবে অভিহিত করে বলেছেন, মস্কো, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনতে সবরকমের প্রয়াস চালিয়ে যাবে।
সেন্ট পিটার্সবার্গে ইরাণের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক বৈঠকে পুতিন চলতি আঞ্চলিক সঙ্কটের মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে ইরাণকে সমর্থনের আশ্বাস দেন।
ইরাণের সরকারী সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সে দেশের পাশাপাশি ওই অঞ্চলের অন্য দেশগুলিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে মস্কোর দায়বদ্ধতার কথা পুতিন পুনর্ব্যক্ত করেন। বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে ইরাণবাসী খুব শীঘ্রই শান্তি ফিরে পাবেন বলেও আশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
অন্যদিকে আরাঘচি বলেছেন, ইরান ও রাশিয়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে গভীর আলোচনা করেছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলী উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। কূটনৈতিক প্রয়াসের মাধ্যমে তা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন এবং রাশিয়ার সঙ্গে সমন্বয় সাধন, তাঁর এই রাশিয়া সফরের লক্ষ্য বলেও ইরানের বিদেশ মন্ত্রী উল্লেখ করেন।