ইরানে দেশব্যাপী যে বিক্ষোভ আন্দোলন চলেছে, তা আজ দশম দিনে পড়লো। এই বিক্ষোভের জেরে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১ হাজার ২০০ জন কে। মার্কিন একটি মানবাধিকার সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্টে প্রকাশ, নিহতদের মধ্যে আছে চারটি শিশু, ২৯ জন বিক্ষোভকারী এবং ইরানী নিরাপত্তা বাহিনীর ২ জন সদস্য।
গত তিন বছরের মধ্যে সেদেশে এই প্রথম এত ভয়াবহ বিক্ষোভ আন্দোলন চলেছে। নিরাপত্তা বাহিনী প্রধান শহরগুলিতে টহলদারি জোরদার করেছে। মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন অশান্তি আরও ছড়ালে তিনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
উল্লেখ্য, ইরানে মুদ্রাস্ফীতির জেরে সেদেশের অর্থনীতির ওপর প্রভাব পড়ায় তার প্রতিবাদে গত ২৮ শে ডিসেম্বর এই বিক্ষোভ আন্দোলন, তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার থেকে ৩১ টি প্রদেশের অন্তত ৭৮ টি শহরের ২২০ টি জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি জানিয়েছে, আন্দোলনের জেরে প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ থেকে ২০ জন। আটক করা হয়েছে কয়েকশো মানুষকে। উত্তেজিত জনতা, সরকার বিরোধী স্লোগান দিতে দিতে প্রশাসনের প্রতি তাদের ধিক্কার জানিয়েছেন। ২০২২-২৩-এ মাহাসা আমিনির মৃত্যুর পর এই প্রথম সেদেশে বিক্ষোভ আন্দোলন এত ছড়িয়ে পড়লো।
এদিকে, ইরানের আধিকারিকরা মার্কিন রাষ্ট্রপতির আন্দোলনের বিরুদ্ধে হুমকির কথা স্বীকার করেছেন। সেদেশের প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গতকাল এক জরুরী বৈঠকে বসে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আপত্কালীন পরিকল্পনা খতিয়ে দেখেন। রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান সংযম বজায় রেখে আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন। প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেইনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তীব্র ঠান্ডা এবং বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে কয়েকটি জায়গায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অবশ্য পাল্টা দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করতে বিভিন্ন জায়গা, বিশেষ করে পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে কাঁদানে গ্যাস ও গুলি বর্ষণ করেছে, গ্রেপ্তার করেছে অসংখ্য বিক্ষোভাকরীকে।
ওয়াশিংটনের হুমকির জেরে ইরানে অশান্তির আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষ আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের জন্য সব রকমের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।