আজ সরস্বতী পুজো ও বসন্ত পঞ্চমী। বাগ্ দেবীর আরাধনায় মেতে উঠেছে গোটা রাজ্য। রাত থেকে পঞ্চমী তিথি লেগে যাওয়ায় ভোর থেকেই বাড়ি বাড়ি ও স্কুল-কলেজে শুরু হয় জ্ঞান ও বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর আরাধনা । তারপর চলে পুষ্পাঞ্চলীর পালা। বাসন্তী রং-এর পোষাকে সজ্জিত কচি-কাঁচারা ভীড় জমায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পাড়ার মন্ডপে। অনেক জায়গায় শিশুদের হাতেখড়িরও আয়োজন করা হয়। ফল-ফুল ও পুজোর উপকরণে চড়া দাম সত্ত্বেও ঘাটতি ছিল না, আয়োজনের। এপার বাংলার অনেকের বাড়িতেই আজ গোটা সেদ্ধর আয়োজন করা হয়েছে। আজ রান্না করে আগামীকাল শীতল ষষ্ঠীতে তা খাওয়া হবে।
বিভিন্ন জেলা থেকে মহা সমারোহে সরস্বতী পুজোর উদযাপনের খবর মিলেছে।
পূর্ব বর্ধমানের কালনায় সরস্বতী পুজোর বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। এই উপলক্ষে চারদিনের উৎসবে মেতে উঠেছেন কালনাবাসী। মন্ডপ, আলোক সোজ্জা ও প্রতিমা নির্মাণে নতুনত্বের ছোঁয়া আকৃষ্ট করছে দর্শকদের । সন্ধে থেকে ভীড়ে জমজমাট কালনা কোনরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবরকমের ব্যবস্হা করা হয়েছে।
নদীয়ার শান্তিপুরে সর্বনন্দী পাড়ায় কানাইবঙ্গ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গতকাল সরস্বতী মায়ের মৃন্ময়ী মূর্তির আবরণ উন্মোচন করা হয়।
জেলা কৃষ্ণনগরে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে এই উপলক্ষে আজ এক ক্যুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। স্হানীয় অন্য বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও এতে অংশগ্রহণ করে। অপারেশন সিন্দুর বিষয়ে এই ক্যুইজ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।
এদিকে, বর্ধমানে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে খাজা আনোয়ারবেড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবছর সরস্বতী পুজো না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্হানীয় বাসিন্দারা। বিদ্যালয়ের গেটে সকাল থেকে তালা ঝুলতে দেখে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। নিজেরা উদ্যোগী হয়ে সরস্বতীর মূর্তি এনে পুজোর আয়োজন করেন।
পাশাপাশি নেতাজীর প্রতিকৃতীতে মাল্যদান করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, কেন এমন হল – তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে কোচবিহার দিনহাটা কলেজেও সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। দু-দল ছাত্রের মধ্যে গন্ডগোল সামলাতে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। পুজো মন্ডপও ফাঁকা করে দেওয়া হয়।